ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিচার প্রলম্বিত করার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে পিটুনিতে তোফাজ্জল নামে এক যুবককে হত্যার মামলার বিচারকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগটি উত্থাপন করেছেন তোফাজ্জলের পরিবারের আইনজীবী জিয়াউর রহমান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বারবার নারাজি
জিয়াউর রহমান বিস্তারিতভাবে জানান, এই হত্যা মামলায় শাহবাগ থানা পুলিশ প্রথমে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে ২১ জন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করার পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করেন। পিবিআই তাদের তদন্ত শেষে ২৮ জনের বিরুদ্ধে একটি চার্জশিট আদালতে পেশ করে।
মঙ্গলবার এই চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল, কিন্তু এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি প্রকাশ করে। তবে, আদালত এই নারাজি আবেদন খারিজ করে দিয়ে চার্জশিটটি আমলে নেন এবং পলাতক ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
বিচার প্রলম্বিত করার কৌশল?
জিয়াউর রহমান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর বারবার নারাজি দেওয়ার ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তোফাজ্জল হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করতে চাইছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মামলার কিছু সংখ্যক আসামিকে রক্ষা করতেই এই নারাজি আবেদনগুলো দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পিবিআই পুলিশের একটি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত, এবং এর প্রতিবেদনের ওপর সাধারণত সবার আস্থা থাকে। এরপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি দিচ্ছে, যা ইঙ্গিত করে যে তারা এই হত্যা মামলার দ্রুত বিচার চান না। এমনকি, আদালত ২২ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের গ্রেফতারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও বিচার বাধাগ্রস্ত
আইনজীবী জিয়াউর রহমান আরও উল্লেখ করেন, এই হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত ৭ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, তোফাজ্জল হত্যা মামলায় ২৮ জনকে অভিযুক্ত করে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গ্রহণ করেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল নামে ওই যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ঢাবির এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে অবস্থিত।
