অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের গ্রেপ্তার: নিষিদ্ধ দলের শোভাযাত্রা আয়োজনের অভিযোগ
অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের গ্রেপ্তার: নিষিদ্ধ দলের শোভাযাত্রা আয়োজনের অভিযোগ

অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের গ্রেপ্তার: নিষিদ্ধ দলের শোভাযাত্রা আয়োজনের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে শোভাযাত্রা আয়োজনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোরে ঢাকার জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানার পুলিশ।

পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের হয়ে কাজ করছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দীন।

শোভাযাত্রার পরিকল্পনা ও অভিযোগের বিস্তারিত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন আওয়ামী লীগের পক্ষে একটি শোভাযাত্রা আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি এই শোভাযাত্রার নাম দিয়েছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা-২০২৬’

তিনি ১১ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অনুমতির আবেদনও করেছিলেন। পাশাপাশি লিফলেট তৈরি করে প্রচার চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের হয়ে প্রচার চালানো এবং শোভাযাত্রা আয়োজন প্রচলিত আইনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। সে কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অধ্যাপকের রাজনৈতিক পরিচিতি ও পূর্ববর্তী ঘটনা

অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের নীল দলের নেতা হিসেবে পরিচিত। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন।

এছাড়াও, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনাগুলো তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে তিনি একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর গ্রেপ্তার শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ায় অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিষিদ্ধ দলের হয়ে কাজ করছিলেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়া চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। এই ঘটনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আইনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে।