ঢাবি বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ': সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
ঢাবি বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি

ঢাবি বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ' উদ্যোগ: ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা তাদের 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদের খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে। ১০ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-সংলগ্ন পলাশী, কাঁটাবন ও আজিমপুর এলাকায় ঘুরে ঘুরে এই উপহার বিতরণ করেন সংগঠনের সদস্যরা। জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের আহ্বানে এই মানবিক উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়, যা ঈদের আনন্দকে সমাজের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ঈদ উপহারের প্যাকেটে কী ছিল?

ঈদবাজারের জন্য প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ প্যাকেট, যাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল পোলাওয়ের চাল, সয়াবিন তেল, চিনি, গুঁড়া দুধ, আলু, এক প্যাকেট সেমাই এবং নুডলস। এই অপ্রত্যাশিত ঈদ উপহার পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রিকশাচালক লতিফ মিয়া বলেন, 'হুট করে এমন বাজারের ব্যবস্থা হবে, তা কখনো ভাবিই নাই। ঈদের বাজার নিয়া এখন কোনো চিন্তা নাই।' তার এই মন্তব্য কর্মসূচির সাফল্য ও প্রভাবকে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।

কর্মসূচিতে যারা সহায়তা করেছিলেন

এই 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচিতে সার্বিক সহায়তা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা মুমিত আল রশিদ, মো. নাজমুল হাসান, তাওহিদা জাহান শান্তা, সন্তোষ কুমার দেব ও ফাতিমা আক্তার। এছাড়াও অন্যান্য সহযোগিতায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনমুন জেসমিন। তাদের নেতৃত্ব ও পরামর্শ এই উদ্যোগকে সফলভাবে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যারা

এই বিশেষ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি ইফাদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, সহসভাপতি সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইশিতা জাহান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম আবরার আলভী, অর্থ সম্পাদক জেরিন সুবাহ, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক কাওসার হোসেন, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক পারভেজ মিয়া, বইমেলা সম্পাদক তাসকিন ফায়েজিন এবং বন্ধু সায়েফা আফরিনসহ অন্যান্য সদস্যরা। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এই সামাজিক দায়িত্ব পালনের কাজটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার এই উদ্যোগ শুধুমাত্র খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশের কম সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারগুলোর মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা ও নেতৃত্ব গুণাবলীর প্রতিফলন ঘটায়। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।