ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরের মামলা প্রত্যাহার, পরিবারের নীরবতা রহস্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তার মা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) এবং ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের রহস্য
এর আগে গত সোমবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা জমা দেন। ওই মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এই নীরবতা ঘটনার পিছনের গল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মারধরের ঘটনা ও ভুক্তভোগীর পরিচয়
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। গত সোমবার ভোররাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। রাহিদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা এই মারধরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
মামলা প্রত্যাহারের প্রভাব ও প্রশ্ন
মামলা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার প্রায়শই চাপ বা ভয়ের ইঙ্গিত দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এখন এই ঘটনার তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারের নীরবতা ঘটনার সত্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।
