কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক অপহরণ: টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেলকে দিনদুপুরে অপহরণ করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় তিনি এই ঘটনায় মামলা করেছেন, যা শিক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে, প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক সোহেল ঢাকা যাওয়ার জন্য কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। এই সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার এসে তাকে উবার ডেকেছেন কি না জানতে চায়। তিনি না বলার পর, কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে গাড়িতে তুলে নেয় এবং মুখ চেপে ধরে। অপহরণকারীরা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন সড়ক ধরে তাকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়, যা ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
এই সময় তার কাছে থাকা একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা প্রায় ১৫ হাজার টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অপহরণকারীরা তার এটিএম কার্ডের পিন নম্বর আদায় করে। পরে, দাউদকান্দির হাবিব মার্কেটের একটি এটিএম বুথ থেকে কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা আর্থিক ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
মুক্তি ও পরবর্তী ঘটনা
ঘটনার তিন থেকে চার ঘণ্টা পর, দাউদকান্দির একটি নির্জন এলাকায় তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অপহরণকারীরা ঢাকামুখী সড়ক ধরে চলে যায়, যা তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে আরও রহস্য তৈরি করে। আবদুর রাজ্জাক সোহেল জানান, ছিনতাইকারীর সংখ্যা চারজন এবং তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তিনি বলেন, “দৈনন্দিন সময়ে এমন ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। আশা করি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে এবং জড়িতরা আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে, এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠছে।
এই অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, যা শিক্ষা খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই ধরনের অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
