ঢাবিতে পথশিশু ধর্ষণ চেষ্টাকারী আটক, ডাকসু নেতার বক্তব্যে আইনি জটিলতার প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এলাকায় এক পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টাকালে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ঘটনাটি ঘটে এবং অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
ডাকসু নেতার ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বিবরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা নিজের ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনাকে এক কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, আটক মাহবুবুর রহমান পলাশী মার্কেটে দুধ সাপ্লাইয়ের কাজ করেন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশের ফুটপাতে ধর্ষণ চেষ্টায় ধরা পড়েন।
সর্ব মিত্র চাকমা জানান, সিভিল সোসাইটির শর্তানুযায়ী কোনো শারীরিক আঘাত ছাড়াই অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়। তিনি বলেন, অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে এবং শয়তানের প্ররোচনায় এ কাজ করেছেন বলে জানায়। তবে, তিনি এও উল্লেখ করেন যে অভিযুক্ত জানেন না কীভাবে তিনি এ কাজ করতে গিয়েছিলেন।
শিশুর নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা
সর্ব মিত্র চাকমা পথশিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার ক্ষেত্রে খুব একটা সিগ্নিফিকেন্ট প্রমাণাদি থাকে না এবং কৌশলে জিজ্ঞেস করলে সে মোটামুটি স্বীকার করলেও তা কনক্রিট প্রমাণ নয়। তিনি আরও যোগ করেন, মামলার খরচ চালানো ও আইনি জটিলতার কারণে মামলার বাদী হিসেবে কেউ থাকতে না চাওয়ায় মামলা না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি তার বক্তব্যে আইনের সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা কথায় কথায় আইনের দোহাই দেন, এবার একটু চোখ খুলুন। দেখুন, আমি আইনের বাইরে যেতে পারিনি আজ! আইন কতভাবে আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা পেয়েছে। সর্ব মিত্র চাকমার ফেসবুক পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি আইনি ব্যবস্থার জটিলতা ও শিশু সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
- ঘটনাস্থল: সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশের ফুটপাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- অভিযুক্ত: মাহবুবুর রহমান, পলাশী মার্কেটে দুধ সাপ্লাইয়ের কাজ করেন
- আটককারী: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম
- থানা: শাহবাগ থানায় সোপর্দ
এ ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জগুলোর উপর নতুন করে আলোকপাত করেছে, যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
