ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যে তারেক রাহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিফযুল কোরআন ও কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬ সিজন ২’-এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। ৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্রের তীব্র অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য দোয়ার আহ্বান
ধর্মমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন উনাকে (তারেক রহমান) হেফাজত করেন। কারণ, ওনার বিরুদ্ধে ইসলামের দুশমনরা প্রচুর ষড়যন্ত্র করছে, যাতে তিনি কোনো ভালো কাজ করতে না পারেন।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান একটি সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের স্মরণ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ইসলামের ধারক-বাহক ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই ধারা বজায় রেখেছিলেন এবং আলেমদের মূল্যায়ন করেছেন। ২০০৯ সালে রোজার মাসে বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমদের হাদিয়া পাঠানোর উদাহরণ দেন, যেখানে নামাজের মোসাল্লা, খেজুর ও আতর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের বর্তমান খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক। তিনি বলেন, ‘এখানে যে সহিহ শুদ্ধ তিলাওয়াত, তাজবিদসহ সুন্দর তিলাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সেটার প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হয়েছে, সেটার জন্য আমি খুব আনন্দিত।’ তার বক্তব্যে কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও সঠিক পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছর আমরা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত ছিলাম, তাই এমন আয়োজন করতে পারিনি। এখন সুযোগ পেয়ে আমরা কেবল কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতাই নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছি।’ এই মন্তব্যে ছাত্রদলের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এই অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
