বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ': অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটালো
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ' উদ্যোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার 'সহমর্মিতার ঈদ': অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর অনন্য উদ্যোগ

বরিশাল নগরীর কর্ণকাঠি এলাকার একটি ভাঙাচোরা ঘরে মাহিম তার মা ও ছোট বোনের সাথে বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বাবা থাকায় সংসারের সমস্ত দায়িত্ব মায়ের কাঁধে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে মা সংসার চালান, কিন্তু মাহিমের ঈদের বায়না মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। মাহিমের মা বলেন, 'ছেলে তার জেদ ধরে রেখেছে, এবার ঈদে ভাই-বোনের জন্য নতুন জামা চাই-ই চাই।'

তানহার নীরব আবদার ও মায়ের দুশ্চিন্তা

অন্যদিকে, তানহার বাবা নেই, অভাবের সংসারে সে মুখ ফুটে কিছু চায় না। তানহার মা বলেন, 'মেয়ে আমার কিছু বলে না, কিন্তু ঈদ এলে আমার দুশ্চিন্তা বাড়ে। কীভাবে নতুন জামা কিনে দেব বা ঈদের দিন ভালো খাবার দেব, তা ভেবে পাই না।'

মাহিম ও তানহার মতো অসংখ্য শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা 'সহমর্মিতার ঈদ' কর্মসূচি চালু করেছে। ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শিশুদের হাতে নতুন জামা তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেল, সেমাইসহ ঈদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বন্ধুসভার মানবিক বার্তা ও সমর্থন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উপদেষ্টা খোরশেদ আলম বলেন, 'এই আয়োজন প্রমাণ করে যে অল্প ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা এবং আন্তরিক উদ্যোগ একটি পরিবারের ঈদকে পাল্টে দিতে পারে। বন্ধুসভা আবারও দেখিয়েছে, মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দিলে আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।'

অন্য উপদেষ্টা আলমগীর হোসেন শিপন যোগ করেন, 'একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে একে অপরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোই সর্বোত্তম পথ।'

এই কর্মসূচিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেনা রানী বিশ্বাস, বন্ধুসভার সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোহসিনা রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, 'এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শুধু বস্তুগত সহায়তাই দেইনি, বরং মানবিক বন্ধনও শক্তিশালী করেছি।'