ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ১০ জন আহত
ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ১০ জন আহত

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, ১০ জন আহত

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়, যার ফলে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে চারজনের আঘাত গুরুতর পর্যায়ের। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করছে, যা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ক্যাম্পাসে আধিপত্য নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের জেরে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ ও নেতাদের বক্তব্য

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সাংবাদিকদের জানান, মধ্যরাতে লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রাবাস প্রশাসন বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবে এবং কেউ আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, "কক্ষের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।" তিনি শিবিরের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন এবং আরও সতর্ক করে বলেন যে, ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে রক্তের বদলা নেওয়া হবে।

ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম তাঁর ফেসবুক পোস্টে পাল্টা দাবি করেন যে, ঢাকা পলিটেকনিকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবির কর্মীদের ওপর রামদা, রড ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। তিনি সরকারকে নিজেদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলাতে বলেন এবং সতর্ক করেন যে, নইলে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বিঘ্নিত করে আবার দখলদারত্ব ও সহিংসতা কায়েমের জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এই ঘটনা ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে এবং ছাত্র রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রতিফলন দেখাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে এবং শান্তি বজায় রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে।