ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, কয়েকজন আহত

রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়, যাতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে আতঙ্ক ছড়ায়

সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ছাত্রদলের অভিযোগ: ছাত্রশিবিরের হামলা

সংঘর্ষের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন যে, ছাত্রশিবিরের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এ সময় ছাত্রদলের এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। রাকিব হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

ছাত্রশিবিরের পাল্টা অভিযোগ: ছাত্রদলের দখলদারিত্ব

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবিরকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। সাদিক অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। সংঘর্ষের কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।