ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আয়োজনে রবিবার (১ মার্চ) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাবির ভিসি চত্বর এলাকায় এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। জানাজার ইমামতি করেন ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম, যা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীদের ভিড় ও স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ
গায়েবানা জানাজা উপলক্ষে রাত ১০টা থেকেই ভিসি চত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীদের ভিড় জমে ওঠে। এ সময় তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্লোগানে পরিবেশকে উদ্দীপিত করে তোলে। শিক্ষার্থীরা ‘ইনকিলাব, ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’, ‘শহীদ খোমেনি, লউ লউ লউ সালাম’, ‘খামেনির স্মরণে, ভয় করিনা মরণে’, এবং ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ধ্বংস হোক, নিপাত যাক’ সহ নানা স্লোগান উচ্চারণ করেন। এই স্লোগানগুলো অনুষ্ঠানের সময়কার আবেগ ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন হিসেবে কাজ করে।
বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন
গায়েবানা জানাজা শেষে ঢাবি শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবি ও সমর্থন প্রকাশ করে, যা ক্যাম্পাসে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ডাকসু ভিপির বক্তব্য ও ঐক্যের আহ্বান
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সাদিক কায়েম বলেন, “আজকে সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়নের কারণ হলো মুসলিম বিশ্ব অনেক বেশি বিভাজনে লিপ্ত।” তিনি এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের সকল যুবক ও রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান, যা আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতি তার প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ঢাকা থেকে আমরা যে নেতৃত্ব দিবো, সেই নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামীর ফিলিস্তিন মুক্ত হবে। কাশ্মীরের মজলুমরা আজাদি পাবে, উইঘুরের মুসলিমরা আজাদি পাবে, রাখাইনের মজলুমরা মুক্তি পাবে, ইরানের মজলুমরা মুক্তি পাবে। আমাদের আদর্শিক অমিল থাকতে পারে, কিন্তু অন্যায়, জুলুম ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে কথা বলতে হবে। আমরা যদি চুপ থাকি, তাহলে ঠিক একই হামলা আমার দেশের ওপর হবে, মুসলমানদের ওপর হবে।” এই বক্তব্যে তিনি বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের সংহতি ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক সংহতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ও ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।
