জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ অভিযোগ: সাবেক শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাবেক এক শিক্ষার্থীর সনদপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সেইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি ও তদন্ত কমিটি গঠন
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সনদপত্র স্থগিত হওয়া ব্যক্তি হলেন এস এম তারিকুল ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)-এর ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর প্রতীক তারামন বিবি হল থেকে লোক প্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব
ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের তালিকা নিম্নরূপ:
- ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল রানা
- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা
- নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা
- সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা
- সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ
প্রশাসনিক সভা ও সিদ্ধান্ত
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে একটি জরুরি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এই সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলামের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সব ধরনের সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নিরাপত্তা ও আইনি সহযোগিতা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগকারী ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর করা মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
