জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পানির লোহার মাত্রা বিপজ্জনক, হাজারো শিক্ষার্থী ঝুঁকিতে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নলকূপের পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় লোহার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে সংগ্রহ করা পানির নমুনায় লোহার পরিমাণ ৬৬.৫ পিপিএম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সীমা ০.৩ পিপিএমের চেয়ে প্রায় ২২০ গুণ বেশি। এই উচ্চ মাত্রার লোহা প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিপজ্জনক মাত্রার লোহা শনাক্ত
ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, মীর মোশাররফ হোসেন হল এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মীর মোশাররফ হোসেন হলে লোহার মাত্রা ৩ পিপিএম, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে কাজী নজরুল ইসলাম হলে লোহার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা স্বাস্থ্যগত দিক থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এবং প্রশাসন বিষয়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেছেন, প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আরও ছয়টি হলের পানি পুনরায় পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনে পাম্প স্থানান্তর বা বিকল্প সমাধান বিবেচনা করা হবে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছয়টি অতিরিক্ত হলে পানি পরীক্ষা চালাচ্ছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পাম্প স্থানান্তর বা অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান করা যায়।
স্বাস্থ্যগত প্রভাব ও সতর্কতা
লোহার উচ্চ মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই দূষিত পানি পান করলে লিভার ও কিডনির সমস্যা, রক্তশূন্যতা, ত্বকের রোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি এই ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর সমাধান বের করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং নিয়মিতভাবে পানির গুণগত মান পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে।
