ঢাবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার, ডাকসুর ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
ঢাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার, ডাকসুর ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার, ডাকসুর তীব্র প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো হয়েছে, যা নিয়ে ছাত্র নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ ও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে "বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির বিনাশর্ত মুক্তি" লেখা পোস্টার দেখা গেছে, যার ফলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ডাকসুর প্রতিবাদ কর্মসূচি ও প্রোক্টর অফিস ঘেরাও

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে তারা প্রোক্টর অফিস ঘেরাও করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানায়। প্রায় ৩টার দিকে ডাকসু নেতারা প্রোক্টর অফিসের সামনে জমায়েত হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরে প্রোক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।

প্রোক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ তাদের জানান, পূর্বে যদি প্রশাসনকে পোস্টার সম্পর্কে অবহিত করা হতো তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। তিনি উল্লেখ করেন যে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগে দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের পরিচয় যাচাই করা হবে। এছাড়াও, প্রভোস্ট ও এস্টেট অফিসকে একটি তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি

প্রতিবাদ থেকে ডাকসু নেতারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। ডাকসুর সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবি জুবায়ের সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় বলেন, "নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ শুধু গত রাতেই নয়, এর আগেও ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তারা শেখ হাসিনার ছবি লাগিয়েছে, ব্যানার টাঙিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ গেট তালাবদ্ধ করেছে। প্রশাসনের অবহেলার কারণে তারা সাহস পাচ্ছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা প্রোক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য। রাতের অন্ধকারে চোরের মতো পোস্টার লাগানো বন্ধ করতে হবে। যারা ছাত্রদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সাথে কোনো আপোস হবে না।"

ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্র নেতাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা বারবার ক্যাম্পাসে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির ফল। ডাকসুর দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যে এখন প্রশাসনের পদক্ষেপই দেখার বিষয়, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।