ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো, ডাকসুর তীব্র প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই' লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়, যা পরদিন শনিবার দুপুরে ডাকসুর নেতা-কর্মীদের নজরে আসে।
ডাকসুর প্রক্টর অফিস ঘেরাও ও দাবি-দাওয়া
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে ডাকসু নেতারা প্রক্টর অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। দুপুর ১টার দিকে তারা প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ডাকসু নেতারা প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি পেশ করেন। প্রক্টর তাদের জানান, পোস্টার লাগানোর বিষয়টি আগে জানা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তিনি বলেন, 'সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দায়িত্বরত দারোয়ানদের পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রভোস্ট ও এস্টেট অফিসকেও তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
ডাকসুর ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও অতীত অভিযোগ
প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, 'নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ শুধু গতরাতে নয়, এর আগেও ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কাজ করেছে। তারা শেখ হাসিনার ছবি, ব্যানার টানানো এবং গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো কাজ করেছে। প্রশাসনের অবহেলার কারণে তারা সাহস পাচ্ছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য। রাতের অন্ধকারে চোরের মতো পোস্টার লাগানো বন্ধ করতে হবে। যারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনও আপস হবে না।'
ডাকসু নেতারা তাদের দাবিতে জোর দিয়ে বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
