ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মারধরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় বুধবার ভোররাতে তরুণ-তরুণীদের মারধরের ঘটনার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফুটেজে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী দুই তরুণী ও এক তরুণকে কিল-ঘুষি, লাঠি এবং হেলমেট দিয়ে আঘাত করছেন, এমনকি ‘ফ্লাইং কিক’ মারার দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও ভিডিও বিশ্লেষণ
এর আগে গত বুধবার রাতে টিএসসিতে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী—এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও আমরা নিরাপদ না...আমাদের মারধর করে ঢাবি শিক্ষার্থীরা।’ পরে ভিডিও দেখে মারধরে জড়িত দুই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাঁরা হলেন বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার তুষার।
প্রথমে ঘটনার একটি ভিডিওর পর শুক্রবার ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজ অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৪টা ৫৩ মিনিটে টিএসসি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে নামেন এক তরুণ ও এক তরুণী। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তরুণ-তরুণী মোটরসাইকেল থেকে নামার পর ওই শিক্ষার্থীরা তাঁদের কাছে যান।
হামলার বিস্তারিত ও তদন্ত কমিটি গঠন
ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রথমে মোটরসাইকেলচালক তরুণের ওপর হামলা চালান। পরে ভুক্তভোগীদের পরিচিত আরও দুই তরুণী ও এক যুবক ঘটনাস্থলে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলা এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মাথায় একাধিকবার হেলমেট দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া কিল-ঘুষি ও ‘ফ্লাইং কিক’ দিতে দেখা যায় হামলাকারীদের।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, তাঁরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছেন। ঘটনার ভিডিও দেখে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।
