জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভে জাকসুর সক্রিয়তা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ধর্ষণ ও অরাজকতার ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকা থেকে জাকসুর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা নতুন প্রশাসনিক ভবন, নতুন কলা ভবন এবং পদার্থবিজ্ঞান ভবন ঘুরে আবার বটতলায় ফিরে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে বিচারহীনতা বন্ধ ও নৈতিক শিক্ষার জোরদার দাবি
মিছিল শেষে বটতলায় একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাকসুর সাহিত্য সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। সমাবেশে জাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আল হাসান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ষকদের কোনো দল নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাই। তিনি ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
সমাপনী বক্তব্যে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে বারবার দাঁড়াতে হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য লজ্জার। তিনি দেশব্যাপী ধর্ষণ প্রতিরোধকে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও আদালতের স্বাধীনতার উপর জোর
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার প্রতিবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া, তিনি আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, আদালত স্বাধীন না হলে সুবিচার সম্ভব নয়, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।
এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাকসুর এই উদ্যোগ ধর্ষণ ও সহিংসতা বিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
