শাহবাগ থানা ঘেরাও: ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ডিসি মাসুদের অপসারণ দাবি
শাহবাগ থানা ঘেরাও: ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শাহবাগ থানা ঘেরাও: ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ডিসি মাসুদের অপসারণ দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজু ভাস্কর্য ও শাহবাগ এলাকা। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে এক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বুধবার দিনভর বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রাজু ভাস্কর্য থেকে শাহবাগ থানা ঘেরাও

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হন কয়েকশ শিক্ষার্থী। সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে শাহবাগ মোড় ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

একপর্যায়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান নেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে এসময় ধ্বনিত হয়— ‘হারুন গেছে যে পথে, মাসুদ যাবে সে পথে’। তারা অবিলম্বে ডিসি মাসুদ আলমের অপসারণ ও ক্যাম্পাসে পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের তিনটি প্রধান দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন:

  • ডিসি মাসুদের অপসারণ: হামলায় সরাসরি ইন্ধনদাতা হিসেবে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলমকে দ্রুত প্রত্যাহার ও বিভাগীয় শাস্তি প্রদান।
  • হয়রানি বন্ধ: ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অনাকাঙ্ক্ষিত নজরদারি ও তল্লাশির নামে হয়রানি চিরতরে বন্ধ করা।
  • বিচার নিশ্চিত করা: ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িত সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নিশ্চিত করা।

পুলিশের দুঃখ প্রকাশ ও চার সদস্য ক্লোজড

পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহবাগ থানার সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিযুক্ত ডিসি মাসুদ আলম। তিনি ঘটনাটিকে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে অভিহিত করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা এই শাস্তিকে ‘আইওয়াশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ডিসি মাসুদের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রশাসনের ভূমিকা ও শিক্ষার্থীদের হুমকি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে পুলিশের এই ধরনের ‘মাস্তানি’ আর বরদাশত করা হবে না।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার হুমকি দিয়েছেন।