ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশ হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও ডিসি অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশ হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত চলাকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে অপসারণের দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে নৃবিজ্ঞান’ প্ল্যাটফর্ম।
অভিযোগপত্র জমা দিতে প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ
পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য থানায় যায়। তবে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার ‘কোনও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে’ অভিযোগপত্র জমা নেয়নি বলে জানান শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের একজন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনিয়া ফাহমিন বলেন, “আমরা ভেতরে গিয়েছিলাম অভিযোগপত্র জমা দিতে, সেখানে ডিসি ছিলেন না। তাই আমরা ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিতে যাই। কিন্তু তিনি কোনও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা নিতে রাজি হননি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লিখিত অভিযোগের আগে মৌখিক অভিযোগ করতে চাইলে সেটিও নিতে রাজি হননি পুলিশ। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে, যা বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
দাবি বাস্তবায়নে সময়সীমা ও কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা
শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শাহবাগ থানার সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পুলিশের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং ডিসি মাসুদসহ হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থী আনিয়া ফাহমিন বলেন, “ডিসি মাসুদকে পদে বহাল রেখে সুষ্ঠু বিচার সম্ভব নয়। যার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে, তাকে দায়িত্বে রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত হতে পারে না। তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতার স্বার্থে তাকে অপসারণ করতে হবে।”
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় পুলিশ কর্তৃপক্ষের এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি, তবে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন, যা শিক্ষার্থী অধিকার ও পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
