জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন বৃত্তি ও মসজিদ নির্মাণে প্রশাসনের ঘাটতি: জকসু নেতাদের অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন বৃত্তি ও মসজিদ নির্মাণে ঘাটতি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন বৃত্তি ও মসজিদ নির্মাণে প্রশাসনের ঘাটতি: জকসু নেতাদের অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবাসন বৃত্তি বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণে ২০ কোটি টাকার প্রজেক্ট হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

আবাসন বৃত্তিতে যোগাযোগের অভাব

আবাসন বৃত্তি প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আপনারা সবাই জানেন, মন্ত্রণালয়ে ফাইলগুলো অযথা পড়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখানে যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। প্রশাসনকে বলবো নিয়মিত যোগাযোগ করুন এবং দেখুন তারা কী করছে।” তিনি দাবি করেন, এই ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের আবাসন বৃত্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

স্টারলিংক ইন্টারনেট ও ইশতেহার বাস্তবায়ন

স্টারলিংক ইন্টারনেট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক চালু করেছি। তবে এটা স্থায়ী সমাধান নয়। আমাদের ইশতেহার ছিল টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থা করা। ইতোমধ্যেই ইউজিসির কাছে ফান্ডের জন্য একটি ফাইল জমা দিয়েছি। বাজেট পাশ হলে জুনের মধ্যে যেসব বিভাগে নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে, তা সমাধান সম্ভব হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নে জকসু নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মসজিদ নির্মাণে জায়গার সংকট

মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “জকসুতে নির্বাচিত হবার পরপরই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সেখান থেকে মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকার প্রজেক্ট পাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জায়গা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা আশা করবো, প্রজেক্ট অন্য কোথাও চলে যাওয়ার আগেই তারা জায়গার ব্যবস্থা করবে।” তিনি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে পারে।

ইশতেহার পূরণের অগ্রগতি

ইশতেহার পূরণের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের ইশতেহারের মধ্যে বাস ট্র‍্যাকার অ্যাপস এবং বাস বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নির্বাচনের পরপরই টাকা জমা দিয়েছি। গুগল অনুমতি দিতে দেরি করেছে। আগামীকালই বাসের ড্রাইভারদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক চালু করবো। পুরানো বাস বিক্রি করে বিশ্ববিদ্যালয় ভালো পরিমাণ টাকা পেয়েছে। আমরা দাবি করেছি, এই টাকা অন্য কোথাও ব্যয় না করে নতুন বাস ক্রয়ে ব্যবহার হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা উন্নয়নে জকসুর প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

জকসুর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য

লিখিত বক্তব্যে জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “আমাদের কাজ হলো অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় করে আনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনদিনের মধ্যে এই টাকা ছাড়ের যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।” তিনি বিগত দেড় মাসের কাজের বিবরণ দিয়ে বলেন, “বৃত্তি নিয়ে ইউজিসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বসে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ত্বরান্বিত করেছি। সেকেন্ড ফেজের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমাদের কাজগুলো চলমান রেখেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুখীমন খাতুনসহ অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে জকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলে ধরেন।