বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নিয়োগ বাতিল, সিন্ডিকেট সভার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদের নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা। গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ নিজেই, পাশাপাশি একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেছেন।
অনিয়মের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া
সিন্ডিকেট সভার অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা সদন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ড. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই অভিযোগগুলো নিয়ে সরব ছিলেন। যদিও তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি পূর্বে তার দায়িত্বে বহাল ছিলেন, তবে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় তাকে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
রেজিস্ট্রারের বক্তব্য ও ঘটনার ধারাবাহিকতা
ড. হারুন অর রশিদ নিজেই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তাকে ফোন করে অফিসে না আসার এবং ছুটিতে থাকার পরামর্শ দেন। তবে তিনি এই প্রস্তাবে সম্মত হননি। পরের দিন রোববার সকালে তিনি স্বাভাবিকভাবে অফিসে গেলে তাকে ফোন করে অফিস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুপুরের দিকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম তার দপ্তরে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে ড. রশিদ অভিযোগ করেন। একই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে জানানো হয় যে তার জন্য সকল পরিবহন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাকে রিকশাযোগে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হতে হয়।
এছাড়াও একটি বিশেষ দল তার দপ্তরে এসে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে কোনো ফাইল বা দলিল যেন তার কাছে না পৌঁছায়। এই ঘটনাগুলো নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিন্ডিকেট সদস্যের ব্যাখ্যা ও চুক্তির শর্ত
এ প্রসঙ্গে বেরোবির সিন্ডিকেট সদস্য এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. ইলিয়াস প্রামানিক জানান, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্তেই উল্লেখ ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে যেকোনো সময় চুক্তি বাতিল করতে পারবে। এই বিধান অনুসারে ড. হারুন অর রশিদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল। সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া ও যোগাযোগের চেষ্টা
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো কলই রিসিভ করেননি। তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) শুধু এতটুকু জানিয়েছেন যে ‘স্যার বর্তমানে ব্যস্ত আছেন’।
এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।
