নোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে 'ছায়াবীথি' উপন্যাসের গভীর আলোচনা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রের একটি বিশেষ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে এই কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে কুমারুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'ছায়াবীথি' নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
উপন্যাসের শৈল্পিক দিকগুলোর ওপর আলোকপাত
পাঠচক্রের আলোচনায় উপন্যাসটির নীরব অথচ গভীর আবেগময় পরিবেশ নির্মাণের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা মানুষের সম্পর্ক, একাকিত্ব ও মানসিক টানাপোড়েনের সূক্ষ্ম উপস্থাপনের প্রশংসা করেন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জামানের সাধারণ জীবন, সংসারের দায়িত্ব ও অনুভূতির দ্বন্দ্ব পাঠকদের কাছে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরা দেয় বলে মত প্রকাশ করা হয়।
একই সঙ্গে নায়লা চরিত্রের মাধ্যমে নারীর অনুভূতি ও অনিশ্চয়তার দিকগুলো সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে বলে আলোচকরা উল্লেখ করেন। ধীরগতির গল্প বলার ভঙ্গি পাঠকদের চরিত্রের গভীরে প্রবেশের সুযোগ দেয়—যা উপন্যাসটির অন্যতম সৌন্দর্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাঠচক্রের শিক্ষামূলক ভূমিকা ও উপস্থিতি
আলোচকেরা বলেন, পাঠচক্র শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বন্ধুদের চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। যা একজন সচেতন পাঠক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
পাঠচক্রে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসীর, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক শারমিন আক্তার, বন্ধু জিসান আহমেদ, প্রশান্ত কুমার সরকার, মোহাম্মদ তুহিন ও সায়মন হাসান। সহসভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণে এই আসরটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই কার্যক্রমটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়। নোবিপ্রবি বন্ধুসভা নিয়মিত এমন পাঠচক্রের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটাচ্ছে।
