ভারতীয় নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পেয়ে ডাকসু নেতার জিডি, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ
ভারতীয় নম্বর থেকে হত্যার হুমকি, ডাকসু নেতার জিডি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে একটি অজ্ঞাতনামা ভারতীয় মোবাইল নম্বর থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলেছেন।

হুমকির বিস্তারিত বিবরণ

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ৩৮ মিনিটে ডাকসু কার্যালয়ে অবস্থানকালে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একটি অজ্ঞাতনামা ভারতীয় নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা নিজের পরিচয় না দিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে এবং যেকোনো সময় তাকে হত্যা করে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়। প্রায় দুই মিনিট ধরে এই হুমকি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো দাবি বা কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

জিডি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানা প্রাঙ্গণে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর মুসাদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, "আমাকে ভারতীয় অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি শাহবাগ থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে জিডি করা প্রয়োজনীয় ছিল।

অতীত অভিজ্ঞতা ও বিচারের দাবি

মুসাদ্দিক অভিযোগ করেন, অতীতে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার আগে তিনিও শাহবাগ থানায় মৃত্যুর হুমকির বিষয়ে জিডি করেছিলেন, কিন্তু কার্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। আমরা আশা রাখি, আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, যারা আমাদের খুন করবে তাদের বিচার যেন হয়—সেই দাবি জানিয়ে যেতে চাই।"

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক একটি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল জয়ী হওয়ার পর যেসব সাধারণ ভোটার 'ধানের শীষ' প্রতীকে ভোট দেননি, তাদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নোয়াখালী জেলায় এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত

মুসাদ্দিক হুমকির প্রসঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, "নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেন, তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে হওয়া উচিত। কিন্তু হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব কাজ দয়া করে বন্ধ করুন।"

ডাকসুর দাবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

ডাকসু নেতারা হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নম্বর শনাক্তকরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দাবি করেন। এদিকে, শাহবাগ থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে।

মুসাদ্দিক আরও বলেন, তিনি প্রাণনাশের শঙ্কায় আইনগত সহায়তা নিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এবি জোবায়ের মিডিয়ার মাধ্যমে বিএনপির হাইকমান্ডের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে বলেন, "জনগণ আপনাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, দেশ দখলের জন্য নয়। ঢাকায় বসে শান্তির বাণী দিলেই হবে না—প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেতাকর্মীদের হামলা-ভাঙচুর, বাড়িঘর দখল ও অগ্নিসংযোগ বন্ধ করতে হবে।"