ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বামপন্থী শিক্ষার্থীদের রাজাকারবিরোধী গানবাজনা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজাকারবিরোধী অবস্থানকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী শিক্ষার্থীদের একাংশ গানবাজনার আয়োজন করেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শুক্রবার বিকেল চারটা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা পিকআপ ভ্যানে সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে গান বাজিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সন্ধ্যার দিকে তারা টিএসসিতে অবস্থান নিয়ে গানের তালে তালে নাচের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটায়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য ও জনপ্রতিক্রিয়া
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন ইলালালা ফারিয়া মতিন বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক সংখ্যক মানুষ জামায়াতকে ভোট দিলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে। সে কারণে আমরা যখন রাজাকারবিরোধী এই গানগুলো রাস্তায় ছেড়ে বের হয়েছি, তখন মানুষের উল্লাস দেখেছি। “মুক্তিযুদ্ধ মানুষ খায় না” এ ধরনের কথাবার্তা বোগাস কথাবার্তা।’ এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বক্তাদের মতামত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হাসান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেশবিরোধী জামায়াতি অপশক্তি গত দেড় বছর ধরে তাদের পুরোনো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে। আমরা টিএসসিতে দেখেছি কীভাবে স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টাঙিয়েছে। আমরা তাদের আস্ফালন ও উচ্চবাচ্য দেখেছি।’ সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘গতকালকের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ একাত্তরবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিয়েছে। যদিও জামায়াত এই মুহূর্তে কার্যত বিরোধী দল। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি অ্যালার্মিং ব্যাপার।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘একাত্তরবিরোধী এজেন্ডার বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান, সে অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে “সব রাজাকার ভেসে যাবে বঙ্গোপসাগরে” গানের মহড়া করেছি।’ এই গানবাজনা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।
কর্মসূচির গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। শিক্ষার্থীরা তাদের সক্রিয়তা দিয়ে দেখিয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক এবং এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে এমন কর্মসূচি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
মোটকথা, এই গানবাজনা কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে এবং রাজাকারবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
