ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামি সাম্প্রতিক সময়ে নেটিজেনদের আলোচনায় উঠে এসেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি এখন স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে ঢাবির এই শিক্ষিকা নিজের রাজনৈতিক পরিচয় উন্মোচন করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন একনিষ্ঠ সমর্থক।
জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
মোনামি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, 'আমাকে অনেকেই জামায়াতি, শিবির ম্যাডাম বলে চেনে আর এতে আমি স্বাচ্ছন্দ। কখনও কখনও আমি গর্বের সঙ্গেই এই নামগুলো নিজের করে নিই।' তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই পরিচয় তার প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত করে না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'আমি এনসিপির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আমি ১১ দলীয় জোটের সক্রিয় সমর্থক ছিলাম।' এই বক্তব্যে তিনি তার রাজনৈতিক আনুগত্য সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নেন।
উদারপন্থি হিসেবে স্ব-পরিচয়
শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামি নিজেকে মধ্যপন্থী হিসেবে বর্ণনা করলেও সামাজিক মাধ্যমে তাকে প্রায়ই ডানপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি বলেন, 'যদি এতে আপনাদের সুবিধা হয়, তাহলে সেটাই বিশ্বাস করতে পারেন।'
তিনি তার বিশ্বাস সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেন, 'আমি ইসলামবিদ্বেষী নই এবং ইসলাম নারী-বিরোধী এ ধারণায় আমি বিশ্বাস করি না। বরং আমি এমন একজন উদারপন্থি, যিনি ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় পছন্দ-অপছন্দ-নির্বিশেষে সবার অধিকারের পক্ষে কথা বলেন।'
নেটিজেনদের প্রতি বার্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আপনারা যদি আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন, তাহলে দয়া করে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না।'
সবশেষে তিনি যোগ করেন, 'আমি হয়তো আপনাদের পছন্দের মানুষ না-ও হতে পারি, তাই অনুগ্রহ করে আমাকে দূরত্বে রাখুন।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তার ব্যক্তিগত সীমানা রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পূর্বের উপস্থিতি ও বিভ্রান্তি
শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামি পূর্বে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় অনেকেই তাকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে মনে করতেন। বিশেষ করে:
- ডাকসুর বিভিন্ন প্রোগ্রামে তার উপস্থিতি
- জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে তার দেখা যাওয়া
এই উপস্থিতিগুলোই নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। তবে তার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে এই সব সংশয় দূর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
