ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত বিরোধী গান-বাজনার মাধ্যমে বামপন্থি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বামপন্থি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা পিকআপ ভ্যানে বক্স বসিয়ে গান বাজিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও তার আশেপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
গান-বাজনা ও ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণের বিস্তারিত
শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর পর সন্ধ্যার দিকে টিএসসিতে অবস্থান নেন। সেখানে তারা গানের সঙ্গে নাচেও অংশ নেন। তাদের বাজানো গানের তালিকায় ছিল প্রিন্স মাহমুদের ‘রাজাকার আল-বদর কিছুই রবে না রে, সব রাজাকার ভাইসা যাইব বঙ্গোপসাগরে’ এবং বিভিন্ন প্যারোডি গান। এই গানগুলো মূলত একাত্তরের গণহত্যা ও জামায়াতের ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক বার্তা বহন করে।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও উদ্দেশ্য
এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত এনামুল হাসান অনয় ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “একদিকে এইটা আনন্দের ব্যাপার যে জামায়াতের যে উচ্চবাচ্য তা আমরা দমিয়ে দিতে পেরেছি। কিন্তু, পুরোপুরি দমাতে পারিনি। কারণ জামায়াত এখন কার্যত বিরোধী দল।” তিনি আরও যোগ করেন, “জামায়াতের আত্মবিশ্বাস আমরা ভাঙতে পেরেছি। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতকে হারাবেই এনি ডে এনি হাউ।”
ডাকসু ভিপির প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী বিতর্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম গানের ভিডিও শেয়ার করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লেখেন, “প্রয়োজনে গান আরও জোরে চালাও। আমারে গালি আরও দাও, কোনও সমস্যা নাই। কিন্তু, বাড়ি বাড়ি আক্রমণ ও দোকানপাট ভাঙচুর থামাও।” যদিও তিনি পরবর্তীতে পোস্টটি মুছে ফেলেন।
এই পোস্টের বিষয়ে অনয় মন্তব্য করেন, “উনি এই পোস্ট করতে পারেন। কিন্তু, পোস্ট করার আগে তার খেয়াল রাখা উচিৎ একাত্তরের গণহত্যায় কারা অংশীদার ছিল এবং একাত্তর পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে রগ কাঁটা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জ্বালাও পোড়াও, সংখ্যালঘু নিপীড়ন, মববাজি এসব কারা করেছে বাংলাদেশের মানুষজন জানে।”
আয়োজনের প্রভাব ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই গান-বাজনার আয়োজন ক্যাম্পাসে উল্লেখযোগ্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কিছু মহল এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। বামপন্থি শিক্ষার্থীদের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে, এটি একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্কের সম্ভাবনাও নির্দেশ করে।
