জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'গুপ্ত রাজনীতি' বিরোধী দেওয়াল লিখন কর্মসূচি
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজের দেয়ালে 'ছাত্র রাজনীতি'র স্থানে 'গুপ্ত রাজনীতি' লেখাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে 'গুপ্ত রাজনীতি'র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা একটি ব্যাপক দেওয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ক্যাম্পাসে স্লোগান সংবলিত চিকা মারা
আজ বিকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের দেয়ালে 'গুপ্ত যাদের অবস্থান, বাড়ি তাদের পাকিস্তান' এই শক্তিশালী স্লোগান সংবলিত চিকা মারেন। এই কর্মসূচিটি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘটিত হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রতিবাদ হিসেবে পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা চট্টগ্রামের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতারা বলেন, 'দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে কোনো ধরনের 'গুপ্ত রাজনীতি' বা অপরাজনীতির স্থান হবে না। কেউ যখন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে, তখনই তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।' তারা উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই দেওয়াল লিখন করা হয়েছে।
এ সময় জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, 'ছাত্রদল সব মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী গোপন পরিচয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছে। অনেক সময় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকছে। আমরা মনে করি, একই সময়ে একাধিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা নৈতিকতার পরিপন্থি। যারা সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চান, তাদেরকে অবশ্যই নিজস্ব দলের ব্যানারে কাজ করা উচিত।'
চট্টগ্রামের ঘটনা ও প্রতিক্রিয়া
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কলেজে 'গুপ্ত রাজনীতি' লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জবি ছাত্রদল আজকের দেওয়াল লিখন কর্মসূচির মাধ্যমে এই সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানায়।
নেতারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে গুপ্ত রাজনীতির মতো কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।



