দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা
দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের অংশে আবারও ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, উজান থেকে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার ডালিয়া পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়। ফলে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভাঙনের বিস্তারিত বিবরণ

মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রায় ১০০ মিটার জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর একই অংশে বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করেছিল। কিন্তু বছর না যেতেই শুক্রবার রাতে পানির তোড়ে সেই পাইলিং ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ভাঙনস্থলে প্রায় ৫০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

যোগাযোগ ও জনজীবনে প্রভাব

ভাঙনের কারণে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক এবং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। সেতু বা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী শুল্ক স্টেশনসহ পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া

বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম, কাউসার আলী ও হবিবর রহমান বলেন, 'বছরের প্রথম পানিতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি।' স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহনাজ বেগম বলেন, 'এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শহরে যাতায়াত করি। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।' শিক্ষার্থী কুলসুম বেগম ও মরিয়ম নেছা বলেন, 'এই সড়ক পথে স্কুলে ও কোচিংয়ে যাতায়াত করি। গত শুক্রবার থেকে দেখি বাঁধের অংশ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।' কৃষক আমজাদ সরকার অভিযোগ করে বলেন, 'বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতু নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হবে। এলজিইডি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড আগে থেকেই উদ্যোগ নিলে এ বিপর্যয় হতো না।'

স্থানীয় সরকারের বক্তব্য

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, 'বাঁশের পাইলিং নির্মাণের সময়ই আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম এটি টিকবে না। সরকারের ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও পানির চাপেই পাইলিং ভেঙে গেছে। এখন আবার বাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।' গঙ্গাছড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, 'গত বছর বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।'

জরুরি ব্যবস্থার দাবি

স্থানীয়দের দাবি, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু, আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের জনপদ রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।