শনিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা। মূল সড়কের পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন এলাকার অলিগলি এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। এই পানি কখন নেমে যাবে, তার সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ড্রেন, ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে পরিষ্কার করছেন এবং পানি প্রবাহ দ্রুত করার চেষ্টা করছেন সকাল থেকেই। পানি সরে যাওয়ার এসব স্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা ধরনের উপকরণ।
বেগম রোকেয়া সরণিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বেগম রোকেয়া সরণি এলাকায় সকাল থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছেন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। সেখানে বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে— জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের ময়লা ও আবর্জনা পানি প্রবাহে বাধা তৈরি করেছিল। এসব ময়লার মধ্যে ছিল প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ নানা ধরনের আবর্জনা। এছাড়াও ছিল মানুষের ব্যবহার করা তোশক ও জাজিম। এমন একটি ছবি দেখা গেছে, রাজধানীর বেগম রোকেয়া সরণীর কাজীপাড়ায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নগরবাসীকে ড্রেনে ময়লা না ফেলার অনুরোধ জানিয়েছে।
সিটি করপোরেশনের অনুরোধ
সিটি করপোরেশন বলছে, নিজের ব্যবহৃত তোশক-জাজিম, আসবাবপত্র বা যেকোনও ধরনের বর্জ্য ড্রেন, খাল কিংবা নালায় ফেলবেন না। এতে পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়। সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। সিটি করপোরেশন জানায়, রাতব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানীর কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের উভয় পাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে নিরলসভাবে কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্য
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেছেন, গত ৪৮ ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, "আপনারা যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধ পরিস্থিতির খোঁজখবর নেবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। কোথাও কোনও জরুরি সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট টিমকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।"
জলাবদ্ধতার কারণ ও ব্যবস্থা
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ড্রেন, নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াটার পাম্পগুলো সচল রাখা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। অতিবৃষ্টির সময়ে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, নগরায়ণের ফলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, অনেক জায়গায় ড্রেন ও খাল ভরাট বা সংকুচিত হওয়া, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিনের পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম
অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কমলাপুরের ২টি এবং ধোলাইখালের ১টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পানির পাম্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, রাস্তা থেকে পানি নিষ্কাশনের মুখগুলো পরিষ্কার রাখতে ডিএসসিসির ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম ভোর হতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের বক্তব্য
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, "টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও আমাদের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর থেকে মাঠে রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।" তিনি যেকোনও পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে একসঙ্গে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, "ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সবসময়ই আপনার পাশে রয়েছে।"



