সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। রোববার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সমবায় অফিসে দেরি
সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে উপজেলা সমবায় অফিসের এক কর্মচারীকে অফিসের তালা খুলতে দেখা যায়। তবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সমবায় কর্মকর্তা রিয়াজুল হকের দেখা মেলেনি।
আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়
একই চিত্র দেখা যায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে। সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে এক কর্মচারী অফিসের তালা খোলেন। পরে সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. শিরিন আক্তার অফিসে আসেন। এ সময় দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি জেলায় থাকি। মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিতে কিছুটা সময় লাগে, তাই দেরি হয়েছে।”
মৎস্য ও যুব উন্নয়ন অফিস
আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের পাশেই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিস। অফিস খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের দেখা পাওয়া যায়নি। অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি রংপুর থেকে আসেন, তাই কিছুটা দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ আলী সরকারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রংপুর থেকে সরাসরি লালমনিরহাটে একটি এনজিওর সভায় গেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অন্তত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
পরিসংখ্যান ও শিক্ষা অফিস
উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত উপজেলা পরিসংখ্যান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেও একই চিত্র দেখা যায়। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সিদ্দিকুর রহমানের কক্ষ এবং উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। পরে সাংবাদিক উপস্থিতির খবর পেয়ে এক কর্মচারী এসে পরিসংখ্যান অফিসের তালা খুললেও কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন পাশের হাতীবান্ধা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সকাল সাড়ে ৯টায়ও তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আজিজা বেগম বলেন, তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



