কুমিল্লার চান্দিনায় পদচারী সেতুর দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পদচারী সেতু নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা রোববার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ করেছেন। এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী উভয় লেনে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়।
অবরোধের কারণ ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঠেরপুল এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। গত বুধবার এই এলাকায় মহাসড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় প্রাণ হারায় চান্দিনার বড়গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইম। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা পদচারী সেতু নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার মানববন্ধন করেন, কিন্তু কোনো আশ্বাস না পেয়ে রোববার মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন।
অবরোধকারীরা জানান, গত তিন বছরে এই স্থানে চারজন স্কুলশিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলার অন্তত পাঁচটি গ্রাম এবং চান্দিনার রারিরচর ও গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই অংশ দিয়ে মহাসড়ক অতিক্রম করে চান্দিনা বাজার ও স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। তাই নিরাপদ পদচারী সেতু বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি
খবর পেয়ে বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম (শাওন), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হকসহ উপজেলা প্রশাসন, থানা ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। সংসদ সদস্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদচারী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ান।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘এই স্থানে পদচারী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু কেউই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। এর সর্বশেষ পরিণতি নবম শ্রেণির ছাত্র ইবনে তাইমের প্রাণহানি। আমরা এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’
সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মহাসড়কের কোনো স্থানে যদি পদচারী সেতু নির্মাণ প্রয়োজন হয়, তাহলে মহাসড়ক অবরোধ করার আগে আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করা প্রয়োজন। আমরা সে আবেদনটি আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর পর সেখান থেকে একটি টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মতামত দেবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে মহাসড়ক অবরোধ করা অযৌক্তিক। আমরা বিষয়টি দেখব।’
এই ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি এলাকাবাসীর আশা জাগিয়েছে।



