ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার নথিপত্র ছিনতাই: যুবদল নেতাকে রিমান্ডে চায় পুলিশ
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে কারিগরি কলেজের নিয়োগ বোর্ডের নথিপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার উপজেলা যুবদল নেতা মো. শরিফুল ইসলাম শরিফকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে বিচারক মো. তাহমীদুর রহমান আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে হরিপুর ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলামের কার্যালয়ে মেদনীসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদের নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন অতর্কিতভাবে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা নিয়োগ কার্যক্রমে বাধা দিয়ে বড় অংকের চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা নিয়োগ পরীক্ষার রেজুলেশন খাতা, ফলাফল শিট, নোটিশ খাতা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিসহ মূল নথিপত্র ছিনিয়ে নেয়।
বাধা দিতে গেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ এবং প্রভাষক মোতাহারা পারভীনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা নথিপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫-৪০ জনকে আসামি করে হরিপুর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে শরিফকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার ও রিমান্ড আবেদন
গ্রেফতার শরিফ হরিপুর উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক এবং মামলার ৯নং এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোর কোনো হদিস মেলেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হরিপুর থানার এসআই মো. সাজ্জাদুজ্জামান জানান, লুটে নেওয়া নথিপত্রগুলো উদ্ধারের জন্য আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত চেষ্টা করেও ফাইলগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, "আশা করছি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নথিপত্র উদ্ধার এবং বাকি আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
পুলিশের অবস্থান
হরিপুর থানার ওসি আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, সরকারি কাজে বাধা এবং নথিপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি দ্রুতই খোয়া যাওয়া ফাইলগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কেননা নিয়োগ পরীক্ষার নথিপত্র ছিনতাইয়ের ফলে কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। পুলিশ আশা করছে, রিমান্ডের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে নথিপত্র উদ্ধার ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
