ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রান্তিক মানুষের মন বুঝতে ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কিছুদিন সময় কাটিয়েছিলেন সমাজকর্মী ও গবেষক ড. শামারুহ মির্জা। সেখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে এক গভীর আশঙ্কার চিত্র। সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘মব-সংস্কৃতি’ বা উন্মত্ত জনতার দাপট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও বিরক্তি দানা বেঁধেছে।
রিকশাচালকের বয়ান
ড. শামারুহ তার পোস্টে ঠাকুরগাঁওয়ের এক রিকশাচালকের বয়ান তুলে ধরেছেন। সেই চালক সাফ জানিয়েছিলেন, তিনি ভোট দেবেন তাদের বিরুদ্ধে যারা পির-আউলিয়াদের মাজার ভেঙেছে এবং বাউলদের মাটিতে ফেলে পিটিয়েছে। শামা মির্জার মতে, এই মনোভাব কেবল ঠাকুরগাঁওয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা দেশেই কমবেশি এমন চরমপন্থি আচরণের ঘটনা ঘটেছে।
উগ্রতা মোকাবিলার আহ্বান
ফেসবুক পোস্টে তিনি সরাসরি ‘মব’ ও ‘জঙ্গিবাদ’ মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে লেখেন: ‘এটা সবার জন্য একটা লেসন (শিক্ষা)। দেশে মব, জঙ্গিবাদ এবং সব রকমের উগ্রতা শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।’
সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
শামারুহ মির্জার এ পর্যবেক্ষণ সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার এ সাহসী বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরণের উগ্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং এটি নির্বাচনী আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ড. শামারুহের মতে, মব সংস্কৃতি ও জঙ্গিবাদ শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতিকর। তিনি সবাইকে এই উগ্রতার বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে তিনি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একই বার্তা দিয়েছেন।



