মাগুরার শ্রীপুরে গ্রাম্য বিরোধে সংঘর্ষ: ৩৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট
মাগুরার শ্রীপুরে গ্রাম্য বিরোধে সংঘর্ষ, ৩৫ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

মাগুরার শ্রীপুরে গ্রাম্য বিরোধে সংঘর্ষ: ৩৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চাকদাহ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় এ হামলায় অন্তত ৩৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকদাহ গ্রামের ইয়াকুব মণ্ডল ও মাহমুদুল হাসান টিটোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য দলাদলি ও বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার বিকেলে লাঙ্গলবাঁধ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে টিটোর সমর্থক রাকিব শেখকে ধাওয়া দেয় ইয়াকুব মণ্ডলের লোকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে।

হামলায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট

অভিযোগ রয়েছে, রাত ৮টার দিকে ইয়াকুব মণ্ডলের সমর্থকেরা টিটোর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে টিটোর সমর্থক হামিদা বেগম (২৫) ও সুমি বেগম (৩৫) গুরুতর আহত হন। তারা বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওমর আলী অভিযোগ করে বলেন, “ইয়াকুব মণ্ডলের সমর্থকরা আশপাশের গ্রাম থেকে ২০০-৩০০ লোক জড়ো করে হামলা চালায়।” পরবর্তীতে টিটোর সমর্থকেরাও পাল্টা হামলা চালিয়ে ইয়াকুব মণ্ডলের পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

ইয়াকুব মণ্ডলের সমর্থক শরিফুল শেখের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, “হঠাৎ করেই টিটোর লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গ্রাম্য বিরোধের এ ঘটনা স্থানীয় জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, এবং পুলিশের নজরদারি ও তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।