গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে অনেকেই ২৪ ঘণ্টা এয়ার কন্ডিশনার বা এসি চালিয়ে রাখেন। কিন্তু এই অভ্যাস কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাক্ষণ এসির ঠান্ডা বাতাসে থাকা শরীরের জন্য নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত
প্রাকৃতিকভাবে আমাদের শরীর বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা এসি চালালে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বাইরের গরমে বের হলেই হিট স্ট্রোক বা অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির সমস্যা
এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধুলো, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জমে। এগুলো শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। হাঁপানি ও অ্যালার্জির রোগীদের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর।
ত্বকের শুষ্কতা ও চোখের জ্বালা
ঠান্ডা বাতাস ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং চোখে জ্বালা, চুলকানি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের বার্ধক্যও ত্বরান্বিত হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিল ও পরিবেশের উপর প্রভাব
২৪ ঘণ্টা এসি চালালে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়। অন্যদিকে, বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বাড়ে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মাঝে মাঝে জানালা খুলে প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল করানো জরুরি। ২৪ ঘণ্টা এসি চালানোর পরিবর্তে ফ্যান ব্যবহার বা নিয়মিত বিরতি নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।



