ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কেঁপে ওঠে এবং জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো নতুন পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
বাসন্ডা নদীর ওপর নতুন পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঝালকাঠি বন্ধুসভা। ২৬ মে বেলা ১১টায় ‘নিরাপদ সেতু আমার অধিকার’ স্লোগানে বাসন্ডা সেতুর ওপর এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা
ঝালকাঠি বন্ধুসভার সভাপতি শাকিল রনির সভাপতিত্বে ও রাহাত মাঝির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দাস, উপদেষ্টা ও আইনজীবী সাকিনা আলম, উপদেষ্টা ও শিক্ষক আফজাল হোসেন, আইনজীবী মুশফিকুর রহমান প্রমুখ।
প্রশান্ত দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আশির দশকে নির্মিত ১৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ৩৪ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন চলাচল করে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।’
আইনজীবী সাকিনা আলম বলেন, ‘সাত টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সেতুটিতে প্রতিদিন উঠছে ৭০–৮০ টন ওজনের যান। সড়ক বিভাগের নোটিশে অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে সেতু পারাপারে নিষেধের তোয়াক্কা নেই কারও।’ এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তা
শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘বরিশাল–খুলনা মহাসড়কের বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুর পর্যন্ত চার লেন সড়কটি অত্যন্ত জরুরি। এতে একদিকে যেমন বাসন্ডা নদীর সেতুতে যানবাহনের চাপ কমবে, তেমনি এই তিন জেলার সড়কপথে যানজটের নিরসন হবে। তাই এই বাসন্ডা বেইলি সেতু দ্রুত ভেঙে সেতু তৈরির আহ্বান জানাই কর্তৃপক্ষের কাছে।’
আইনজীবী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘সাত বছর আগে এটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও আজ পর্যন্ত নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি সড়ক ও সেতু বিভাগ। উল্টো প্রতিবছর সেতু সংস্কারে ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল অর্থ। শেষ পাঁচ বছরেই সেতুটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার ইসলাম, বন্ধু রবীন্দ্রনাথ মল্লিক, হৃদয় কর্মকার, ফাহিমা আক্তার, মো. মেহেদী, প্রদীপ কর, মো. রাকিব, কেয়া আক্তার, আব্দুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, মো. নাসিরসহ অন্য বন্ধুরা।



