প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে রৌমারী-চিলমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল থেকে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু করা হয়। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের নদী পারাপারে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে।
ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রৌমারী ঘাট থেকে ‘ফেরি কদম’ নামক ফেরিটি চিলমারী নৌ-বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ফেরিটির পাইলট মো. নূর আবেদিন জানান, নির্ধারিত সময়েই ফেরি ছেড়ে গেছে। পাশাপাশি ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটিও অচিরেই এই রুটে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ফেরিটির কিছু কাজ বাকি থাকায় আগামী সপ্তাহে এটি চলাচল শুরু করবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ফেরি চালু হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। রৌমারী উপজেলার ট্রাকচালক আনছার আলী বলেন, ফেরি চালু হওয়ায় আমাদের সময় ও টাকা বাঁচবে। দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে বিকল্প পথ ব্যবহার করে বাড়তি খরচ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছিল।
স্থানীয় আয়নাল হক বলেন, ফেরি চালু হওয়ায় ভালো হয়েছে। এখন সামনে ঈদ আসছে, মানুষ নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে পারবে। এতে করে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছি।
চিলমারীর নৌ-বন্দর এলাকার হামিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস ফেরি বন্ধ থাকার পর আবার চালু হলো। আমরা চাই সারা বছর যেন ফেরি চালু থাকে। এতে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
পটভূমি
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছিল। কিন্তু চালুর পর প্রায় তিন বছরের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে কয়েকবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এবার ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হলো।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ জানান, রৌমারী ঘাট থেকে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ফেরি ছেড়ে গেছে। কুঞ্জলতা ফেরির কিছু কাজ বাকি থাকায় আগামী সপ্তাহে এটি যুক্ত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।



