নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে এই পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপকসহ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিরা।
পরিদর্শন শেষে ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য
পরিদর্শন শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জারিয়া স্টেশনটি ১০৮ বছরের পুরোনো। গত এক শতাব্দীতেও এ অঞ্চলে রেলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। দুর্গাপুরবাসীর প্রাণের দাবি ছিল রেললাইনটি দুর্গাপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশের রেল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে আজ আমরা এখানে এসেছি। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) দ্রুত সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে এ উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
রেল প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং আমরা জনগণের দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নেত্রকোনা-১ আসনের জন্য ইতোমধ্যে পাঁচটি বড় সেতুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন রেললাইনের উন্নয়নের জন্য আমরা সরেজমিন সমীক্ষা করছি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানান, জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হলে এ অঞ্চলের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে দুর্গাপুরের সাদা মাটি, বালু, কয়লা ও কৃষিপণ্য পরিবহণে খরচ কমে আসবে এবং পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।
মতবিনিময় সভা
এদিন বিকালে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১০৮ বছর ধরে জারিয়া পর্যন্ত রেললাইন ছিল; কিন্তু আমরা দুর্গাপুর-কলমাকান্দাবাসী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রেললাইন সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুর্গাপুরের উন্নয়নের স্বার্থে সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দুর্গাপুরকে নতুনভাবে সাজাতে ধর্মভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গঠন করা হবে। বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে একমঞ্চে নিয়ে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে না। আমরা সবাই মিলে আধুনিক ও সমৃদ্ধ দুর্গাপুর-কলমাকান্দা গড়ে তুলতে চাই।
সভাপতিত্ব ও বিশেষ অতিথি
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর বণিক সমিতির সভাপতি রনজিৎ সেন, আদিবাসী নেত্রী লুদিয়া মালঞ্চ সাংমাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জেলা ও উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিজন অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান।



