ঢাকার সাভারে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় দীর্ঘ ২৭ দিন আত্মগোপনে থাকার পর রোববার (৫ জুলাই) রাতে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. সুমন শেখ।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সুমন শেখের হাত-পা বেঁধে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরা হয়। নির্যাতনের সময় তাকে প্রাণভিক্ষা চাইতেও দেখা যায়।
অভিযোগের বিবরণ
অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ মে রাজাশন এলাকায় অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে সিরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা সুমন শেখের গতিরোধ করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অপ্পো (ওপ্পো) মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের আলটিমেটাম দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। পরে ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী এলাকার একটি নির্জন ঘরে নিয়ে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার মাথা ও ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে।
মুক্তিপণ ও হুমকি
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর আরও নির্যাতন চালানো হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তার স্ত্রী ধারদেনা করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে অভিযুক্তদের দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বাকি টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ না করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও পুনরায় হুমকি
গুরুতর আহত অবস্থায় সুমন শেখকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও অভিযুক্তরা গত মাসে আবারও তার বাড়িতে গিয়ে অবশিষ্ট টাকা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পূর্ব বিরোধের প্রেক্ষাপট
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ভুক্তভোগীর চাচা মোরশেদ আলম রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন ‘রাজধানী বেকারি’র স্থাপনা ২৭ লাখ টাকায় সিরাজুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। তবে পুরো অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বকেয়া ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায়ে আইনি পরামর্শ দেওয়ার কারণেই সুমন শেখের ওপর ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্তরা।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি নুর মোহাম্মদ বলেন, "আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"



