ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে সড়ক, রেল ও নৌপথে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।
সড়কপথে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকার অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাসের অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পুলিশের দাবি, অতিরিক্ত বাস চালানো হলেও চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।
রেলপথে বাড়তি ট্রেন, তবু যাত্রীর চাপ
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২৪ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ২২ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর ঘোষণা দেয়। কামালাপুর রেলস্টেশনে বাড়তি ট্রেন থাকলেও টিকিট না পেয়ে অনেককে প্ল্যাটফর্মে বসে থাকতে দেখা গেছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার ঈদে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ট্রেনে বাড়ি ফিরবেন।
নৌপথেও চাপ
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের গন্তব্যে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাড়তি লঞ্চ চালালেও যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌপুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
যাত্রীদের কষ্টের কথা
এক যাত্রী বলেন, 'বাড়ি যেতে চাই, কিন্তু বাস পাচ্ছি না। তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি।' আরেক যাত্রী জানান, 'ট্রেনের টিকিট অনলাইনে পাইনি, তাই সড়কপথে আসতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু যানজটে চরম ভোগান্তি।'
পুলিশ ও প্রশাসন যানজট নিরসনে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তবে যাত্রীদের দাবি, ঈদযাত্রায় আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।



