নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুন্দর ও অর্থবহ করতে নির্বাচনের আগে মক ভোটিং করার পরিকল্পনা করছে। রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মক ভোটিংয়ের গুরুত্ব
আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা কিছু মক রিহার্সালেরও আয়োজন করবো। এবার মক ভোটিং করা হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সুন্দর, কার্যকর ও অর্থবহ হয়।’ তিনি আরও জানান, প্রথমে কিছু মাস্টার ট্রেনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, পরে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল সম্প্রতি সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমার জানামতে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে তাদের নিশ্চয়ই কিছু প্রস্তুতি রয়েছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে তারা একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছেন।’
নির্বাচনের প্রস্তুতি
ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সাধারণত পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এখন কোন নির্বাচন আগে হবে এবং কোনটি পরে, সেটিও পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়।’ তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটার তালিকা, নির্বাচনী উপকরণ ও ভোটকেন্দ্র ইসির কাছে রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়টি তফসিল ও নির্বাচনের তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রশিক্ষণ ও ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা
আখতার আহমেদ বলেন, ‘আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোটগ্রহণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সম্পর্কিত। তফসিল ঘোষণার পর আমরা পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করব।’ তিনি আরও জানান, ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান, অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোথায়, কীভাবে এবং কোন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করবেন, সে পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাজেট প্রণয়নও করা হবে।
সম্ভাব্য সময়সীমা
সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে নির্বাচন করার মতো প্রস্তুতি কমিশনের আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিগুলো রয়েছে। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—একটি নির্বাচন করতে হলে আমাদের ন্যূনতম ৪৫ দিনের একটি শিডিউলিং প্রয়োজন হয়। এই ৪৫ দিনের সময়সীমা ধরে আমরা বাকি কাজগুলো এগিয়ে নিতে পারব, সেটা সেপ্টেম্বর হোক বা অক্টোবর। আমরা ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন করি।’
আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রসঙ্গ
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সরকার বলছে, দলের বাইরে থেকে কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারবে। এ বিষয়ে কমিশনের নজরদারি আছে কিনা জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমি নির্বাচনের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়কে মূল বিষয় হিসেবে দেখি না। প্রার্থীর ক্যান্ডিডেসি বা প্রার্থিতা-সংক্রান্ত বিষয়ই আমার বিবেচ্য। রাজনৈতিক পরিচয় এখানে গৌণ।’
অঙ্গীকারনামা না থাকা প্রসঙ্গে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অঙ্গীকারনামা না থাকায় প্রার্থীর যোগ্যতা–অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘প্রার্থীর যোগ্যতা–অযোগ্যতা আইন দ্বারা নির্ধারিত। যে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবেন, তিনি প্রার্থী হবেন। আর যিনি শর্ত পূরণ করবেন না, তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না। বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। অঙ্গীকারনামা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল, এখানে রাখা হয়নি। তবে অন্যান্য শর্ত তো আছে। সেগুলো পূরণ করে যারা প্রার্থী হবেন হবেন। যারা প্রার্থী হবেন না হবেন না। আর পরে যদি দেখা যায় কেউ শর্ত পূরণ করেননি, তাহলে তিনি অযোগ্য হবেন।’



