ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা
ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ১১ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মো. ইছহাক দুলাল।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপসমূহ
যানজট নিরসন কমিটির প্রস্তাবনাগুলো নিম্নরূপ:
- ঢাকা শহরের চারদিকে অবস্থিত খালগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস ও ছোট লঞ্চ চালু করা।
- ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড বা মিনি রেলপথ স্থাপন করা।
- মিনি রেলপথের পাশে একটি রিং রোড তৈরি করা।
- সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাচপুরে, মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে এবং বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা।
- মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, বাবুবাজার, সায়দাবাদ, মহাখালি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তর করা।
- কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সাথে সংযুক্ত করা অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা।
- জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপন করা।
- ঢাকার চারদিকে ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালু করা।
- ফুটপাত দখল মুক্ত করা।
- ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।
- ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে নগর পরিবহণ চালু করা।
- সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে গ্যাস না দেওয়া।
ট্রেন চলাচলের সমস্যা ও সমাধান
লিখিত বক্তব্যে আবু ইছহাক দুলাল বলেন, "প্রতিদিন কমলাপুর থেকে বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ৫২টি ট্রেন ছেড়ে যায় এবং ৫২টি ট্রেন প্রবেশ করে।" কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ২৪টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে, যার মধ্যে ১১টি স্পেশাল এবং ১৩টি বি ক্লাস। ১১টি ক্রসিং স্টেশন মাস্টার এবং ১৩টি গেইটম্যান নিয়ন্ত্রণ করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "১১টি ক্রসিংয়ে সময় লাগে ১০ থেকে ১১ মিনিট এবং ১৩টিতে ৬ থেকে ৭ মিনিট। ১০৪টি ট্রেনের জন্য গড়ে ৭ মিনিট হিসাব করলে প্রতিদিন ৭২৮ মিনিট বা ১২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র ট্রেন চলাচলের কারণে।" যেহেতু যানজট সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সৃষ্টি হয়, এই সময়টাকে অর্ধেক তথা ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরা যায়।
এই সময়ে অন্যান্য যানবাহনের জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সময় অপচয় দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অন্তরায়। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বাইপাস রেলপথ বা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে এই সমস্যার অনেকাংশই লাঘব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাফিক প্রশিক্ষণ ও নগর পরিবহণ
ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আবু ইছহাক দুলাল বলেন, "ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কস্টেবলদেরকে এসএই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।"
অন্যদিকে, গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিক্সার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের মাসে অন্তত একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। প্রচার মাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং যানজট নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
নগর পরিবহণ চালু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহণ চালু করতে হবে। এতে নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা হবে, যা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এসি গাড়ি থেকে প্রাপ্ত লাভ নন এসিতে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।" এই সুবিধা সাধারণ মানুষ ভোগ করবে এবং প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় রাস্তায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা হ্রাস পাবে।
গ্যাস বণ্টন ও অর্থনৈতিক প্রভাব
আবু ইছহাক দুলাল আরও বলেন, "গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে রপ্তানিমুখি শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাস সংযোজন করা উচিত, যেখানে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে।" এতে শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে যাবে।
কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন হিমেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি হাজি আব্দুস ছামাদ, ইকবাল আহমেদ রেজা, সালাউদ্দিন খন্দকার, মুখ্য সমন্বয়ক আ.শ. ম. সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেন পাটোয়ারী, কোষাধ্যক্ষ ইমতিয়াজ উদ্দিন, সদস্য রেজাউল করিম শিপন ও আরাফাত হোসাইন মিনাল প্রমুখ।



