ঢাকার খাল উন্নয়নে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প হাতে নিলো সরকার
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কদমতলী এলাকায় জিয়া সরণি খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডিএনডি খাল খনন ও খালের দুপাশে গার্ডওয়াল স্থাপনের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিয়া সরণি খাল খনন করে পরিকল্পিতভাবে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শুরু হবে আগামী জুলাই থেকে
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে আগামী জুলাই থেকে এ প্রকল্পের কাজ করা হবে। তিনি বলেন, আগামী বর্ষার পর থেকে খালগুলো খননের কাজ শুরু হবে এবং ইতোমধ্যে পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার সব খাল উদ্ধার ও দখলকারীদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে জোরালো পদক্ষেপ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, শুধু দখল ও দূষণের কারণে এসব খালগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে, যা নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও তীব্র করছে। তাই ঢাকাকে জলাবদ্ধ মুক্ত রাখতে, পানি প্রবাহ সচল করতে খালটিতে ৩০০ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এছাড়া শ্যামপুর খাল খনন ও বাঁধের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বাজেট দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দ্রুত খালটি পরিষ্কার, দখলমুক্ত ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। দিনের ভোট রাতের মাধ্যমে আসেনি। তিনি আরও যোগ করেন, জিয়া স্মরণি খাল ও সড়ক শুধু জিয়া নামটি হওয়ায় বিগত সরকার ১৯ বছরে খালটি পুনঃখননসহ উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা করেনি এবং জিয়া সরণি সড়কের কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। এতে এলাকার বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার কী নাম সেসব আমরা দেখতে চাই না, আমাদের মূলমন্ত্র হলো দেশের উন্নয়ন করা।
উপস্থিত ছিলেন যারা
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



