বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মন্দিরের জমিতে জোরপূর্বক টিকিট কাউন্টার নির্মাণের চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত দাসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বলভদ্রপুর বাজার-নন্দী মার্কেটের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ফেরদাউস শিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে বাধাল বাজার সংলগ্ন বিকেবিবি সার্বজনীন দুর্গামন্দির কমিটির সঙ্গে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। মন্দির কমিটির নেতারা জানান, ফেরদাউস শিকদার দূরপাল্লার বাস ইমা পরিবহণের কাউন্টার স্থাপনের জন্য মন্দিরের জমি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। মন্দির কমিটি বিষয়টিতে রাজি না হলে হুমকি-ধমকি শুরু হয়।
হামলার বিবরণ
বুধবার কাউন্টারের ঘর তৈরির জন্য মন্দিরের সামনে সরঞ্জাম মজুত করা হয়। প্রতিবাদ করলে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত দাসকে গালিগালাজ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে ফেরদাউস ও সাগরসহ ৫-৬ জনের হামলার শিকার হন তিনি। সঞ্জিত দাস বলেন, "ফেরদাউস অন্যায়ভাবে মন্দিরের জমিতে বাস কাউন্টার করতে চেয়েছিল। সম্মতি না দেওয়ায় সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এখন আমি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে জরুরি সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, "ফেরদাউস একজন সন্ত্রাসী। তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।" বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. আব্দুল হাই মন্দিরের জমি ধর্মীয় সম্পত্তি উল্লেখ করে জোরপূর্বক কাউন্টার স্থাপনের চেষ্টার নিন্দা জানান।
বিচার দাবি
মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল কুমার দাস বলেন, "পাঁচটি গ্রামের মানুষ এ মন্দিরে পূজা করেন। ফেরদাউসের কর্মকাণ্ডে সবার মনে আঘাত লেগেছে। আমরা তার বিচার চাই এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।" বাধাল বাজার কমিটির সভাপতি মশিউর রহমানও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
ফেরদাউস শিকদার দাবি করেন, বাজারের ব্যবসায়ী মনিরুল শিকদারের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চুক্তিতে জমি ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ঝামেলা রয়েছে। জমি দখলের কোনো বিষয় নেই।"
পুলিশের অবস্থান
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, "এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"



