বগুড়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল লুটের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
বগুড়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল লুটের অভিযোগ

বগুড়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল লুটের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গোপনে বিপুল পরিমাণ চাল চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওতে ধরা পড়েছে চাল চুরির দৃশ্য

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে মজুত সরকারি চাল বের করে অটোভ্যানে তুলছে কয়েকজন বহিরাগত যুবক। পাশেই দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুর রহমান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ২১১৮ উপকারভোগীর মাঝে ভিজিএফের ১০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক দায়িত্বে ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুর রহমান। চাল বিতরণ শেষে সবাই চলে গেলে জনশূন্য পরিষদ চত্বরে দুটি অটোভ্যান আসে। সেখান থেকে ৩৪ বস্তায় ১ হাজার ৭০০ কেজি চাল নিয়ে যান তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুস্থ, অসচ্ছল ও দরিদ্র প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ৮-৯ কেজি করে পেয়েছেন। আবার যারা পাবার কথা তারা পায়নি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিজের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে চাল পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া তালিকায় নাম থাকলেও ইউনিয়নের ৪, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অনেকে চাল পাননি। স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করে সরকারি চাল চুরি হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে বাসাবাড়ির বার্ষিক ট্যাক্সের (ইউপি কর) প্রায় ছয় লাখ টাকা ও স্যানিটেশন প্রকল্পের সুবিধাভোগীর জমা দেওয়া সরকারের পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন অন্য ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা। ভিজিএফ তালিকাভুক্ত জনগোষ্ঠীর স্বাক্ষর ও টিপসই জাল করাসহ অনেকে চাল পাননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্যানেল চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের অবস্থান

প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য শামসুর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল নিয়ে যাওয়া ঘটনার ভিডিও দেখেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শুক্রবার লিখিত অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। চাল চুরির ঘটনা তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনগণ দ্রুত বিচার কামনা করছেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।