দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার: মিরসরাই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুদ কালাকে বহিষ্কার
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। বহিষ্কৃত নেতার নাম মো. মাসুদ কালা (৩২), যিনি করেরহাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের পটভূমি
গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মাসুদ কালাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে, ওই দিন বিকেলে করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় গাড়িতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়, যাতে পাঁচজন আহত হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাসুদ কালাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁকে দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ওমর শরীফ ও সদস্যসচিব শাহ মো. ফোরকান উদ্দিন চৌধুরী যৌথভাবে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আরিফ মাইনউদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে মাসুদ কালার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই দলীয় নীতিমালা অনুসারে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও অভিযোগ
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় মাসুদ কালার যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাঁকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মাসুদ কালার বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তার ওপর হামলা, পাহাড় কেটে বালু লুট, দস্যুতাসহ মোট ১২টি মামলা থানায় রেকর্ড করা রয়েছে।
ওসি কাজী নাজমুল হক উল্লেখ করেন, "মাসুদ কালার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা আমাদের তদন্তে ধরা পড়েছে। তাঁর গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই ঘটনা মিরসরাই এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পদক্ষেপ অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ওমর শরীফ বলেন, "আমরা কোনো সদস্যের অপরাধমূলক কার্যকলাপ সহ্য করব না। মাসুদ কালার বহিষ্কার আমাদের সংগঠনের নৈতিক মানদণ্ড রক্ষার একটি অংশ।" তিনি আরও যোগ করেন যে, দলটি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।
এই ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য এলাকাতেও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ অপরাধ বিরোধী কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



