ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাখালীতে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালে পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার এই সভার আয়োজন করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এবং ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন অংশগ্রহণ করেন। মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম। এ ছাড়া পরিবহনের মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিরাপত্তার ওপর জোর
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তার মতে, সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
ডিএমপি কমিশনারের প্রতিশ্রুতি
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হবে। চাঁদাবাজি বা যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সভায় ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভোগান্তিমুক্ত করতে পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, কেবল সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই যাত্রীদের জন্য একটি মসৃণ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
এই মতবিনিময় সভা ঈদযাত্রার প্রস্তুতি পর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
