কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদীর পাকা সেতু নির্মাণে তিন বছরেও শেষ হয়নি, ভাসমান সেতুতে ঝুঁকি
কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদীর পাকা সেতু নির্মাণে তিন বছরেও শেষ হয়নি

কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদীর পাকা সেতু নির্মাণে তিন বছরেও শেষ হয়নি

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি পাকা সেতুর কাজ সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য নির্মিত একটি ভাসমান সেতুও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পারাপার হচ্ছেন।

২৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

নদীর দুই তীরের অন্তত ৪৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত এই সেতু ব্যবহার করে আসমানিয়া বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করেন। গোমতী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আসমানিয়া বাজার, বেগম রোকেয়া বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রিগ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সেতু।

বেগম রোকেয়া বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, ‘স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ভাসমান সেতু পার হতে খুব ভয় লাগে। বৃষ্টিতে ভিজে কাঠের পাটাতন নড়বড়ে হয়ে গেছে। মনে হয়, এই বুঝি ভেঙে পড়বে।’

নির্মাণকাজে বিলম্ব ও সময় বাড়ানো

সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৮ আগস্ট। ১০ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৯ টাকা ব্যয়ে ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়নি। আসমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ও আবু ইউসুফ জানান, সেতুর কাজ ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই দফা সময় বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি, এবং তৃতীয় দফায় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

ভাসমান সেতুর দুর্দশা

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী ভাসমান সেতু নির্মাণ করেন। কিন্তু গত বছরের ২৯ মে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুটি ভেঙে যায়, এবং পরে মেরামত করা হয়। একই বছরের ২১ আগস্ট বন্যার পানির স্রোতে আবারও সেতুটি ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করে নদীর স্রোত কমলে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে চলাচল শুরু করেন।

আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, ‘পাকা সেতুর কাজ ধীরগতিতে চলছে। অস্থায়ী ভাসমান সেতুটির অবস্থাও নাজুক। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। প্রয়োজন ছাড়া এখন অনেকেই বাজারে আসতে চান না। এতে টানা তিন বছর ধরে ব্যবসা কমে গেছে।’

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী মো. খোয়াজুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএবিএনএমই কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ জানান, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এই অবস্থায় নদীর দুই তীরের মানুষদের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে চলেছে।