ভূমি অফিসে দেরিতে আসার অভিযোগে তিন কর্মকর্তা বদলি
কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি দেখতে পান, নির্দিষ্ট সময়ে অফিস খোলা হয়নি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত নেই। পরে তিনি প্রায় আধা ঘণ্টা অফিসের বারান্দায় বসে অপেক্ষা করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
কর্মকর্তাদের বদলি ও তদন্তের সিদ্ধান্ত
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক ও অফিস সহকারী জান্নাতীকে বদলি করা হয়। নাসির উদ্দিন ও ওমর ফারুককে আড়াই হাজারে এবং জান্নাতীকে বন্দর উপজেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময়ের ঘটনা
এর আগের বুধবার সকাল ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল অফিসের প্রধান ফটক খোলা পেলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ দেখতে পান। তিনি তখন বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় ভূমি সেবা নিতে আসা এক সেবাগ্রহীতাকেও অপেক্ষা করতে দেখেন তিনি এবং তার সাথে কথা বলেন। প্রায় আধ ঘণ্টা পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত হলে, প্রতিমন্ত্রী তাদের কাছে সময়মতো না আসার কারণ জানতে চান। তাদের ব্যাখ্যা শুনে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এই ঘটনা সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভূমি অফিসের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও সময়োপযোগী হবে।
