সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে খাসপুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুজন নিহত, তিনজন গ্রেপ্তার
রায়গঞ্জে খাসপুকুর সংঘর্ষে দুজন নিহত, তিনজন গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে খাসপুকুর নিয়ে সংঘর্ষে দুজন নিহত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাসপুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়

পুলিশের হেফাজতে থাকা তিনজন হলেন রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আছমত আলী, তরিকুল ইসলাম ও আশরাফ আলী। এঁরা আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের পাঁচ বিঘা আয়তনের খাসপুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কর্মী আছমত আলীর (৫০) সঙ্গে ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের (৪৮) দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আগে আছমত আলী পুকুরটি গোয়ালপাড়া মসজিদের নামে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করতেন।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক তিন বছরের জন্য পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। এই ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ

গতকাল সোমবার সকালে আবু বক্কর সিদ্দিক তাঁর লোকজন নিয়ে মাছ ধরার জন্য পুকুরে জাল ফেললে আছমত আলীর লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। এ সময় হাঁসুয়া, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নেয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ভাগ্যবশত, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু বক্কর সিদ্দিক পক্ষের ইসমাইল হোসেন (৭০) ও আবদুস সালাম (৬০) মারা যান।

পুলিশের বক্তব্য ও ব্যবস্থা

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুজনকে হত্যার ঘটনায় আছমত আলী ও তাঁর দুই সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা পুলিশি পাহারায় সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই খাসপুকুর নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার করেছে।